
নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁর নিয়ামতপুরে দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ সংকটে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় কম সামগ্রী পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রান্তিক পর্যায়ের সেবাগ্রহীতারা। অনেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সেবা না পেয়ে ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন।
নিয়ামতপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির ইমপ্ল্যান্ট, আইইউডি (কপার-টি) এবং স্থায়ী পদ্ধতি ভ্যাসেকটমি ও টিউবেকটমি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিতভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতির খাবার বড়ি, কনডম ও ইনজেক্টেবলও চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ হচ্ছে। বিশেষ করে ইনজেক্টেবল বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পরিবার পরিকল্পনা সহকারীরা জানান, অল্প পরিমাণ সামগ্রী নিয়ে গ্রামে গেলে চাহিদা অনুযায়ী সেবাগ্রহীতাদের দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোঃ মাহমুদ হাসান বলেন, স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতির মধ্যে খাবার বড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় অনেক কম খাবার বড়ি ও কনডম পাওয়া যাচ্ছে, আর ইনজেক্টেবল পাওয়া যাচ্ছে না।
একজন সেবাগ্রহীতা জানান, আগে পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর মাধ্যমে বাড়িতে বসেই জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পাওয়া যেত। কয়েক মাস ধরে নিয়মিত সেবা না পাওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। দ্রুত এ সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নিয়ামতপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ ইকরাম রহমান সরবরাহ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, গত মাসে কিছু সামগ্রী এসেছে, তবে তা চাহিদার তুলনায় কম। এর আগের কয়েক মাস কোনো সামগ্রী পাওয়া যায়নি। প্রতি মাসে চাহিদা অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয় এবং প্রাপ্ত সামগ্রী মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা হয়। সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি উঠেছে।