শিরোনাম :
নিয়ামতপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে সম্পত্তি ভোগদখল ও আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ামতপুরে রসুলপুর ইউনিয়নে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক উন্মুক্ত অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত নিয়ামতপুরে শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক উন্মুক্ত অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত নিয়ামতপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত” বৃক্ষরোপণ, বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভায় নেতাকর্মীদের মিলনমেলা নিয়ামতপুরে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক উন্মুক্ত অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁর মান্দায় মাইকিং করে শেখ হাসিনার আগমনের প্রচারণা, ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ অটোরিকশা জব্দ, কিশোর আটক; জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত ​ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে মালিকবিহীন ৯০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ অনাবৃষ্টিতে ফাটল ধরেছে আমনক্ষেতে, সেচ-সারে বাড়তি ব্যয়ের চাপে কৃষক নিয়ামতপুরে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে শঙ্কা, উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা বাঘায় ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় অভিযান,১২ বস্তা চিনি জব্দ দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক ক্ষতি করেছে: মন্ত্রী মিল্লাত

ঝিনাইদহে সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের যুগান্তকারী সাফল্য

মোঃ ফজলুল কবির গামা, বিশেষ প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪১৩ সময়-দৃশ্য

 

 

ডিজিটাল সুরক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন
ডিজিটাল রূপান্তরের এই স্বর্ণযুগে প্রযুক্তির যেমন অফুরান কল্যাণ রয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহার সৃষ্ট অন্ধকার দিকটিও মানবসমাজকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা এবং ডিজিটাল বুলিংয়ের মতো আধুনিক সামাজিক ব্যাধিগুলো যখন সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছিল, ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে ত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ। সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার ভিকটিমদের দ্রুত উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ এক অনন্য ও অনুকরণীয় পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল’ যে অবিশ্বাস্য ও যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে, তা কেবল অপরাধ দমনের পরিসংখ্যান নয়; বরং এটি সাধারণ মানুষের মনে আইনের শাসনের প্রতি অগাধ আস্থা ফিরিয়ে আনার এক উজ্জ্বল দলিল। সাইবার সেলের সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর দূরদর্শিতার সাথে কাজ করে বিগত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ হতে অদ্যাবধি কালিয়াকৈর ও ঝিনাইদহ সদর থানার দুটি হত্যা মামলার ৩ জন আসামি গ্রেপ্তার, কোটচাঁদপুর থানার ডাকাতি মামলার ৩ জন ডাকাত গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার, সদর থানার দস্যুতা মামলার ১০ জন আসামি গ্রেপ্তার ও ইজিবাইক-মোবাইল উদ্ধার, কালিয়াকৈর থানার দস্যুতা মামলার ১ জন আসামি গ্রেপ্তার এবং সদর থানার দুটি অপহরণ মামলার ২ জন ভিকটিম উদ্ধার ও ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ১০টি দামি মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ভুলবশত প্রেরিত ৬৭,৪৫৭/- টাকা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টিকটক, টেলিগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো জনপ্রিয় অথচ অপব্যবহারযোগ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া ২৮ জন ভিকটিমকে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সহায়তা প্রদান এবং জিডি মূলে নিখোঁজ হওয়া ২ জন ভিকটিমকে উদ্ধারে এই সেলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে গরুর হাট থেকে গরু চুরি করে পালানোর সময় ২ চোর গ্রেফতার, গরু সহ চোরাই কাজে ব্যবহৃত পিকআপ জব্দ

উদ্ধারকৃত এসব মোবাইল ফোন ও অর্থ গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রকৃত প্রাপকদের হাতে সোপর্দ করেন ঝিনাইদহ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, পিপিএম-সেবা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব শেখ বিল্লাল হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জনাব মোঃ মোসফোকুর রহমানসহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের চৌকস অফিসার ও ফোর্সবৃন্দ।

এই মহতী আয়োজনে পুলিশ সুপারের সুদূরপ্রসারী ও প্রজ্ঞাবান বক্তব্য পুরো অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তিনি অত্যন্ত দূরদর্শিতা ও গাম্ভীর্যের সাথে উল্লেখ করেন যে, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাইবার বুলিংকে একটি গুরুতর সামাজিক ও আইনি অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে কালবিলম্ব না করে নিকটস্থ থানায় অবহিত করতে হবে। তাঁর এই বক্তব্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলার যে অদম্য প্রত্যয় ফুটে উঠেছে, তা সত্যিই এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কসুলভ মনোভাবের পরিচায়ক।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের এই সামগ্রিক কার্যক্রম ও পুলিশ সুপারের সুযোগ্য নেতৃত্ব প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা, আন্তরিক সদিচ্ছা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করা গেলে যেকোনো সামাজিক অপরাধ ও ডিজিটাল সংকটকে সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব। ঝিনাইদহ পুলিশের এই নিরলস প্রয়াস সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আগামীর একটি নিরাপদ, মানবিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যটাগরির আরও খবর
© All rights reserved ©2026 dainikajkerkholakagoj.com