শিরোনাম :
নিয়ামতপুরে কালাইয়ের খেতে ছাগল যাওয়া নিয়ে মারধরে মা ছেলে আহত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন-পৌরসভার বিশেষ অভিযান বকশীগঞ্জের লাউচাপড়ায় পর্যটন কেন্দ্র উন্নয়নে কনসালটেশন সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে মন্টু সভাপতি ও ফয়সাল মাহমুদ সম্পাদক নির্বাচিত নিয়ামতপুর উপজেলায় সমন্বিত পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে গভীর রাতে ২৩ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন নারায়ণপুরে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসক নিয়ামতপুরে ৫৫০ লিটার চোলাইমদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার বসতবাড়িতে অভিযান, মদ তৈরির উপকরণ (ওয়াশ) জব্দ অপরাধ দমন ও মাদক উদ্ধারে সাফল্য: রাজশাহী রেঞ্জে নওগাঁর পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে সম্মাননা চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের পুনর্বাসন নিয়ে কর্মশালা

ত্রাণ চাই না, নদী বাঁচাও, টিআরএম চালু করো” — ভবদহ বিল ও স্লুইস গেটে জীবনের দুর্ভোগ

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৫০ সময়-দৃশ্য

 

বুধবার ৫আগষ্ট‌ ২০২৬


দক্ষিণাঞ্চলের ‘দুঃখ’ বলে পরিচিত ভবদহ বিল এলাকা ও ২১ ভেন্ট স্লুইস গেট চত্বরে পা রাখতেই চোখে পড়ে এক করুণ দৃশ্য। একদিকে পলি জমে স্তব্ধ হতে বসা নদীর গতিপথ, অন্যদিকে কপাটের জং ধরা কাঠামো। বর্ষা মৌসুম এলেই অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুরের শত শত গ্রামের মানুষের চোখ থেকে ঘুম কেড়ে নেয় জলাবদ্ধতা।

সম্প্রতি সরেজমিনে ভবদহ স্লুইস গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্লুইস গেটের পলি সরাতে সেনাবাহিনীর তদারকিতে ড্রেজিং চললেও স্থানীয়দের মনে স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো রয়ে গেছে চরম সংশয়।

স্লুইস গেটের ওপর দাঁড়িয়ে কথা হয় ডুমুরিয়া এলাকার ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ কৃষক অখিল দাসের সাথে। জীবনের বহু সময় ধরে এই অভিশপ্ত জলাবদ্ধতার সাথে লড়াই করে চলছেন তিনি।

প্রতিবেদক: অখিল কাকা, ভবদহ স্লুইস গেটের এখন যে অবস্থা দেখছেন, এতে কি আপনাদের দুর্ভোগ কিছুটা কমছে?

অখিল দাস: (গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে) “বাপু, গেটের কপাট দু-একটা খোলা থাকলেও পলি জমে নদীর তলা উঁচু হয়ে গেছে। উজুড়ে পানি নামবে কীভাবে? পাম্প দিয়ে পানি সেচে সাময়িক ধান চাষের চেষ্টা করা হয় বটে, কিন্তু এক পশলা ভারী বৃষ্টি হলেই বিলের পর বিল ভেসে যায়। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা স্থায়ী মুক্তি চাই।”

প্রতিবেদক: পানি উন্নয়ন বোর্ড তো নদী খনন আর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প চালাচ্ছে। আপনাদের মূল দাবিটা আসলে কী?

অখিল দাস: “পানি বোর্ডের এই ঠিকাদারদের খননে আমাদের কিস্যু লাভ হয় না। পলি তো নদী কেটে ঠেকানো যাবে না! কুদরতি নিয়ম না মানলে ভবদহের মুক্তি নেই। একমাত্র উপায় হলো বিলে বিলে ‘টিআরএম’ (জোয়ার-ভাটা ব্যবস্থাপনা) চালু করা। জোয়ারের সাথে পলি বিলে ঢুকুক, বিলে পলি জমে উঁচু হোক আর নদী নাব্য থাকুক। নদী বাঁচার রাস্তা না দিলে আমাদের পুরো অঞ্চল একদিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  তালতলীতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা: সভাপতি মাইনুল ইসলাম, সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ

প্রতিবেদক: প্রশাসনের প্রতি আপনাদের বার্তা কী?
অখিল দাস: “আমরা একটাই কথা বলি—প্রকল্পের নামে টাকা নষ্ট না করে মানুষের কথা শুনুক। আন্দোলন করতে করতে আমাদের চুল পেকে গেল। কপাট আর গেট নয়, নদীকে নিজের পথে চলতে দেওয়া হোক। আমরা শান্তিতে বাস করতে চাই, নিজেদের জমিতে সোনার ফসল ফলাতে চাই।”

প্রতিবেদকের টীকা: দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে সাময়িক পাম্পিং বা অপরিকল্পিত খনন যথেষ্ট নয়। স্থানীয় কৃষিজীবী ও ভুক্তভোগীদের সাথে একাত্ম হয়ে বিজ্ঞদের মতামত—প্রাকৃতিক নদী ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) নিশ্চিত না করলে ভবদহের অভিশাপ চিরতরে মোছা সম্ভব নয়।

 

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যটাগরির আরও খবর
© All rights reserved ©2026 dainikajkerkholakagoj.com