
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নওগাঁর পোরশায় চিকিৎসকের পরিবর্তে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানো এবং চিকিৎসায় চরম অবহেলার অভিযোগে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ‘আল-মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতাল’-এর মালিক মো. আহসান হাবিবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) পুলিশি অভিযানে উপজেলার সরাইগাছী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই প্রসববেদনা নিয়ে আমিন (৩৮) তাঁর স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে নওগাঁর আল-মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোছা. শারমিন আক্তার রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যালোচনা করে সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের ওপর আস্থা রেখে পরিবারের পক্ষ থেকে অপারেশনে সম্মতি দেওয়া হয় এবং হাসপাতালের যাবতীয় খরচ পরিশোধ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রোগীর পরিবারের অগোচরে সংশ্লিষ্টরা চিকিৎসক ডা. শারমিন আক্তারের পরিবর্তে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করান। অপারেশনের পর মা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রকৃত ঘটনা গোপন করে সময়ক্ষেপণ করে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
পরিস্থিতির অবনতি হলে নবজাতককে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জুলাই সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পোরশা থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর পোরশা থানা-পুলিশের একটি দল সরাইগাছী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি ও আল-মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতালের মালিক আহসান হাবিবকে গ্রেফতার করে।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে চিকিৎসকের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে অপারেশন করানোর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চিকিৎসাগত যোগ্যতা এবং নবজাতকের মৃত্যুর সঙ্গে ওই অপারেশনের সম্পর্ক—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।