সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এক শিক্ষককে থানায় ডেকে নিয়ে এসে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে তেমনি একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে দেশের আলোচিত জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিন। ওসি নুরে আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে লক্ষ্মী রাণী নামের এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে নারী ও শিশু ডেস্কে সাড়ে তিন ঘন্টা অবৈধভাবে আটক করে রাখেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে সেই শিক্ষককে ওসির রুমে নিয়ে এসে বসান। এদিকে একসময় খুব গর্ব করে মামলা দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত মামলা রেকর্ড করেননি ওসি। ঘটনাটি ঘটেছে গত, বুধবার (৫ মার্চ) বিকেলে নওগাঁ সদর মডেল থানায়
ভূক্তভোগী শিক্ষকের নাম নগেন্দ্র নাথ দেবনাথ। তিনি শহরের চক প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের সহকারী শিক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মী মিলন চন্দ্র দেবনাথের বড় ভাই। তার গ্রামের বাড়ি পার-বাঁকাপুর হলেও দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানেই থাকছেন। আর শহরের হাট-নওগাঁ এলাকার অভিযোগকারী লক্ষ্মী রাণী সুদের ব্যবসা করেন বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীর। যদিও সুদের বিষয়টি স্বীকার করতে নারাজ থানার ওসি ও লক্ষ্মী রাণীর পক্ষে আসা প্রভাবশালী প্রতিনিধিরা।
ভূক্তভোগী শিক্ষক নগেন্দ্র নাথ দেবনাথ বলেন, বুধবার হঠাৎ সাড়ে ১২টার সময় নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি স্যারের কল পেয়ে থানায় আসি। থানায় এসে জানতে পারি লক্ষ্মী রাণী নামের একজন আমার নামে অভিযোগ করেছে।
নগেন্দ্র নাথ বলেন, লক্ষ্মী রাণীর কাছে থেকে সুদের উপর টাকা নিয়েছিলাম। বিভিন্ন সময় সুদের টাকা দিয়েছি। একসময় টাকা দিতে অপরাগত প্রকাশ করায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি স্যার আমাকে এখনই টাকা দিতে বলেন। যদি না দিতে পারি, তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে কোর্টে চালান করে দিবে।
তিনি আরও বলেন, এক পর্যায়ে আমাকে সোয়া একটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত থানাতে আটকে রাখে। পরে আমার প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং কালিতলার মিঠু নামের এক ভাইয়ের সহযোগীতায় এবং ওসি স্যারের হস্তক্ষেপে আগামী রবিবার এই বিষয়ে একটি মিটিং হবে। সেখানে অল্প করে ২-৪হাজার টাকা লক্ষ্মী রাণীকে দেওয়ার শর্তে আমাকে থানা থেকে ছেড়ে দেন থানার ওসি।
ইতিমধ্যে আমি তাকে সুদ বাবদ তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা শোধ করেছি। এবং তার ছেলেকে প্রাইভেট পড়িয়ে ৭০হাজার টাকা শোধ করেছি। অথচ এই লক্ষ্মী রাণী পুরোপুরি অস্বীকার করেন। এখন আমার একটাই চাওয়া আমি যেন একটা সুষ্ঠ পরিবেশে চাকরি করতে পারি। এবং এর একটি সঠিক সমাধান হয়।
একইভাবে সঠিক সমাধান চেয়ে তার ছোট ভাই মিলন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমার দাদাকে ওসি ডেকে নিয়ে এসে তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন। টাকাগুলো ফেরত দিলে মামলা দিবেনা, অন্যথায় মামলা দিবে বলে একপ্রকার হুমকি দেয়। সুদের পাওনা টাকার জন্য তিনি আমার দাদার সাথে এমনটি করলেন। যা মোটেও কাম্য নয়।